ঢাকা, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ – বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো, যখন নাগরিক পার্টি (NCP) আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করল। গত বছরের ছাত্র আন্দোলন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর এই দলটি গঠিত হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য একটি “দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র” প্রতিষ্ঠা করা। দলটি নতুন সংবিধান প্রণয়নের মাধ্যমে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছে।
নেতৃত্ব ও লক্ষ্য
নাগরিক পার্টির নেতৃত্বে রয়েছেন নাহিদ ইসলাম, যিনি ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা ছিলেন। তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি রাজনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলতে চাই, যেখানে রাজনীতি হবে জনগণের জন্য, ক্ষমতার জন্য নয়।
প্রেক্ষাপট ও গঠন প্রক্রিয়া
২০২৪ সালের আগস্টে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে হওয়া গণবিপ্লব বাংলাদেশকে এক নতুন রাজনৈতিক দিগন্তে নিয়ে আসে। বেকারত্ব, দুর্নীতি ও স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে সংগঠিত এই আন্দোলনই পরবর্তীতে নাগরিক পার্টির জন্ম দেয়। তাদের মূল দাবি ছিল একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও প্রকৃত গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা।
বাংলাদেশে নাগরিক পার্টির আত্মপ্রকাশ: নতুন রাজনীতির সূচনা
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও চ্যালেঞ্জআগামী অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনে নাগরিক পার্টি অংশগ্রহণ করবে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে তরুণ সমাজের মধ্যে এই দলটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দলটির অন্তর্ভুক্ত সদস্য গন তাদের কার্যক্রমে ব্যাপক জনসমর্থন পাচ্ছেন এবং প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সার্বিক সহযোগিতা ও পাবেন। কেননা জুলাই বিপ্লবে সর্বস্তরের জনগনকে উদ্বুদ্ধ করে সার্বিক স্বাধীনতা অর্জনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল পাশে থাকলেও সাহসী ভূমিকা গ্রহণ করায় তাদের অবদান অমলিন থাকবে। তবে তাদের ব্যাক্তি জীবনের কার্যক্রমকে যেন রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার হিসাবে ব্যাবহার করতে না পারে সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।
নাগরিক পার্টির আত্মপ্রকাশ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। দেশের জনগণ তাদের ভোটাধিকার সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারলে ভবিষ্যতে এই দলের মুখপাত্র হয়ে যারা সংসদে প্রতিনিধিত্ব করবেন তারা দেশের গণতন্ত্র ও উন্নয়নে বিস্তর ভূমিকা রাখতে পারবে বলে দেশের মানুষের প্রত্যাশা , নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে তারা জনগনের অধিকার আদায়ে কতটা সক্ষম তা সময়ই বলে দেবে।