একজন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের
 অনেক কাজ নিজের অজান্তে
ইসলামী শরিয়তের পরিপন্থী হয়ে যায়।
সবে বরাতের রাতে আল্লাহ্তায়ালা সকল মুসলিমদের
 সুযোগ দেন তওবা করে নতুন
প্রত্যয়ে জীবন শুরু করার। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভাগ্যবান ব্যাক্তিগণ পুনরায়
সৎ পথে জীবন 
শুরু করে।

শবে বরাত এ আল্লাহ তার বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমত ও ক্ষমা প্রদানের ঘোষণা দেন। তবে, আল্লাহর কাছে দুআ করার জন্য কিছু নির্দিষ্ট শর্ত আছে।
শবে বরাতের আমল ইসলামে একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হিসেবে বিবেচিত হয়। (“লাইলাতুল বরাত” বা “শবে বরাত” নামে পরিচিত) হলো ইসলামিক ক্যালেন্ডারের ১৫ শাবান রাত, যা বিশেষভাবে আল্লাহর দয়া এবং ক্ষমার রাত হিসেবে পরিচিত। এই রাতে আল্লাহ তার বান্দাদের জন্য বিশেষ রহমত, ক্ষমা এবং মুক্তির ঘোষণা দেন। সবে বরাতের আমল সাধারণত এই রাতে বেশি করা হয়।

এখানে সবে বরাতের আমল সম্বন্ধে কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক উল্লেখ করা হলো:

১. নফল নামাজ (সালাত)

শবে বরাতের রাতে নফল নামাজ আদায় করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষভাবে, তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া এবং নফল সালাত হিসেবে ১০, ২০, বা ১০০ রাকাত সালাত আদায় করতে উৎসাহিত করা হয়।

২. দুআ (দরখাস্ত) করা

শবে বরাতের রাতে আল্লাহর কাছে বিশেষ দুআ ও প্রার্থনা করা। এই রাতে আল্লাহ তার বান্দাদের মাফ করেন এবং তাদের জীবনের প্রতিকূলতা দূর করেন।

৩. তাহলীল (তাসবিহ)

শবে বরাতের রাতে তাহলীল বা তাসবিহ করতে হবে। অর্থাৎ, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” এবং “সুবহানাল্লাহ” উচ্চারণ করা।

আল্লাহর গুণাবলী স্মরণ করার মাধ্যমে তার কাছে তওবা করতে ও ক্ষমা চাইতে হবে।

৪. তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনা

শবে বরাতের রাতে আল্লাহর কাছে তওবা করা এবং পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা।

এটি সেই রাত, যেখানে আল্লাহ দয়া ও ক্ষমা প্রদান করেন এবং সেই সমস্ত লোকদের জন্য মুক্তি ঘোষণা করেন যারা পরিতাপ এবং তওবা করে তার কাছে ফিরে আসে।

৫. জিকির ও আল্লাহর নাম স্মরণ

রাতের সময় জিকির বা আল্লাহর নাম স্মরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই রাতে আল্লাহর কাছে আর্জি জানানো এবং তার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা।

৬. গরিবদের সাহায্য করা (সদকা/দান)

শবে বরাতের রাতে গরিব ও দুঃস্থদের সাহায্য করা এবং সদকা প্রদান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে, এই রাতে দান করার মাধ্যমে নিজের পাপ মাফ হতে সাহায্য পায়।

৭. সূরা ইয়াসিন ও অন্যান্য সূরা পাঠ করা

শবে বরাতের রাতে সূরা ইয়াসিন পাঠ করা বিশেষভাবে মর্যাদাপূর্ণ। এতে আল্লাহর রহমত এবং বরকত লাভের আশ্বাস থাকে।

অন্যান্য সূরা যেমন সূরা দাহর ও সূরা আল-ইখলাস পাঠ করাও ভালো।

৮. রাতে ঘুমানোর পরিবর্তে ইবাদত করা

শবে বরাতের রাতে ঘুমানোর পরিবর্তে অধিকতর ইবাদত করা ও আল্লাহর কাছে মাফ চাওয়া। এই রাতের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া উচিত, কারণ এটি আল্লাহর কাছ থেকে দয়া ও ক্ষমা পাওয়ার একটি বিশেষ রাত।

৯. পরিবারকে ইবাদতে উৎসাহিত করা

পরিবারের সদস্যদেরকেও এই রাতের ইবাদত এবং দুআতে অংশগ্রহণ করতে উৎসাহিত করা।

১০. মৃতদের জন্য দুআ করা

শবে বরাতের রাতে মৃতদের জন্য দুআ করা এবং তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা একটি সুন্দর আমল। এটি তাদের জন্য উপকারী হতে পারে এবং আল্লাহর কাছে তাদের জন্য রহমত চাওয়া যেতে পারে।

শেষ কথা:

শাব বরাত রাত হলো বিশেষ রাত, যেখানে আল্লাহ তার বান্দাদের প্রতি দয়া ও ক্ষমা প্রদানের ঘোষণা দেন। এই রাতে অধিক ইবাদত, দুআ, তওবা ও আল্লাহর প্রতি আনুগত্য ব্যক্ত করার মাধ্যমে মুসলিমরা তার রহমত এবং মাফ লাভের আশা করতে পারেন।

যেসব ব্যক্তির দোয়া কবুল হবে না, তারা হলেন:

১. শিরককারী ব্যক্তি

যারা শিরক বা আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে শরীক করে তাদের দুআ কবুল হবে না। শিরক হলো আল্লাহকে ছাড়া অন্য কারো প্রতি আনুগত্য বা প্রার্থনা করা, যেমন অন্য দেবতার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা।
কুরআন (সূরা লুকমান, 31:13) তে বলা হয়েছে: “নিঃসন্দেহে আল্লাহ তার সাথে শিরক করার দুআ গ্রহণ করবেন না।”

২. অত্যন্ত মিথ্যাবাদী এবং দুশ্চরিত্র ব্যক্তি

যারা মিথ্যা কথা বলেন এবং অশ্লীলতা বা অন্য সব ধরনের খারাপ কাজের মধ্যে ডুবে থাকেন, তাদের দুআ সাধারণত কবুল হয় না, যতক্ষণ না তারা সেই সব পাপ থেকে তওবা না করে।

৩. ঈমানহীন বা অমুসলিম ব্যক্তি

যে ব্যক্তি ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস এবং আদর্শের সাথে একমত নয়, তার দুআও আল্লাহ কবুল করবেন না, যতক্ষণ না সে ইসলাম গ্রহণ না করে।

৪. অন্যদের সাথে ঝগড়া করে বা কারো সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে রাখা

যারা নিজের আত্মীয়স্বজন, বন্ধু বা প্রতিবেশীদের সাথে সম্পর্ক ভেঙে রাখে বা তাদের প্রতি ক্ষোভ পোষণ করে, তাদের দুআ কবুল হওয়ার সম্ভাবনা কম।
হাদিসে বলা হয়েছে: “যে ব্যক্তি তার সম্পর্ক ছিন্ন করে, আল্লাহ তার দুআ কবুল করেন না।”

৫. অত্যন্ত অহংকারী বা গর্বিত ব্যক্তি

যারা নিজেদের আল্লাহর কাছে নম্র এবং অভ্যন্তরীণভাবে দরিদ্র মনে করে না, তাদের দুআ কবুল হওয়ার সম্ভাবনা কম। আল্লাহ তাআলা একান্তভাবে humble (নম্র) মানুষের কাছ থেকে দুআ শুনতে চান।

৬. যারা মুনাফিক বা দ্বৈত চরিত্রসম্পন্ন

যারা অন্যদের সামনে ইসলাম বা সৎ জীবনযাপন প্রদর্শন করেন, কিন্তু অন্তরে মুনাফিকি (কপটতা) ধারণ করেন, তাদের দুআও কবুল হয় না।

শেষ কথা

শবে বরাতের রাতে আল্লাহ তার বান্দাদের জন্য বিশেষ রহমত ও ক্ষমা প্রদান করেন, তবে উপরের যে সকল ব্যক্তিরা আল্লাহর সাথে সম্পর্কিত অসত্য বা অন্যায় করেন, তাদের দুআ কবুল হবে না। সুতরাং, দুআ করার আগে নিজের অন্তর ও মনকে পরিষ্কার করে তওবা করা এবং আল্লাহর প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস রাখা আবশ্যক।

শবে বরাত বা লাইলাতুল বরাত কুরআনে সরাসরি উল্লেখিত না হলেও, এর সাথে সম্পর্কিত বিশেষ অর্থ ও মহিমা রয়েছে যা আল্লাহর দয়া, ক্ষমা এবং রহমতের সাথে সম্পর্কিত। এ বিষয়ে কিছু সাধারণ কুরআনিক শিক্ষা রয়েছে যা শবে বরাতের রাতে আল্লাহর রহমত ও ক্ষমতা সম্পর্কে চিন্তা করতে সাহায্য করে।

একটি উদাহরণযোগ্য আয়াত হলো:

সুরা আয-যুমার (৩৯:৫৩):

“বলুন, হে আমার বান্দাগণ, যারা নিজেদের প্রতি অন্যায় করেছে, আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। আল্লাহ সব পাপই ক্ষমা করেন। নিশ্চয়ই তিনি অতি ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু।”

এই আয়াতটি আমাদের জানিয়ে দেয় যে, আল্লাহর রহমত অসীম এবং তিনি সব পাপ ক্ষমা করতে পারেন। শবে বরাতের রাতে, যারা আন্তরিকভাবে তওবা করে আল্লাহর কাছে দুআ করেন, তাদের জন্য আল্লাহর বিশেষ রহমত ও ক্ষমা লাভের সুযোগ থাকে।

শবেবরাতের সামাজিক দিক

শবেবরাত শুধুমাত্র এককভাবে ইবাদতের রাত নয়, এটি একটি সামাজিক ইবাদতও। বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে শবেবরাত পালনে ধর্মীয় একতা এবং সৌহার্দ্য বৃদ্ধি পায়। মুসলিমরা একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে, দোয়া, উপহার, ও ভালোবাসার মাধ্যমে একে অপরকে সমর্থন জানান।

শবেবরাতের প্রথা

চাঁদের তিথি: শবেবরাত সাধারণত শাবান মাসের ১৫তম রাতে পালন করা হয়। তবে কিছু অঞ্চলে বিভিন্ন রীতি অনুযায়ী শবেবরাত পালনের সময়ের মধ্যে একটু তারতম্য থাকতে পারে।

প্রসাদ বিতরণ: কিছু দেশে, শবেবরাতে মুসলিমরা তাদের বাড়ির দরজায় বা মসজিদে পবিত্র খাবার বা প্রসাদ বিতরণ করেন যাতে সমাজের সব অংশের মানুষ এটি উপভোগ করতে পারে।

শবেবরাত মুসলিম উম্মাহর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং পুণ্যময় রাত। এটি বিশেষত শাবান মাসের ১৫তম রাতে পালিত হয়। এই রাতটি মুসলিমদের জন্য ইবাদত, ক্ষমা প্রার্থনা, আত্মশুদ্ধি এবং আল্লাহর নিকট দোয়া ও মাগফিরাত চাওয়ার বিশেষ রাত হিসেবে গণ্য করা হয়। শবেবরাতের আবির্ভাব সম্পর্কে কিছু বিস্তারিত তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো:

শবেবরাতের পেছনে ধর্মীয় গুরুত্ব

১. দোয়া ও মাগফিরাতের রাত: শবেবরাতের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এই রাতটি ক্ষমা প্রার্থনা ও মাগফিরাতের রাত হিসেবে চিহ্নিত। হাদিসে এসেছে যে, এই রাতে আল্লাহ তার বান্দাদের প্রতি বিশেষ দয়া প্রদর্শন করেন। বিশেষভাবে আল্লাহ বলেন, “যে কেউ এই রাতে আমার কাছে ক্ষমা চায়, আমি তাকে ক্ষমা করি।” (ইবনে মাজাহ)

এ রাতেই আল্লাহ তার বান্দাদের জন্য পরবর্তী এক বছরের ভাগ্য নির্ধারণ করেন, যেমন: কার মৃত্যু হবে, কার জীবিকা কেমন হবে, কার ওপর কী কী বিপদ আসবে, এসব বিষয় আল্লাহ এ রাতে লিখে রাখেন।

2. আল্লাহর নিকট নেমে আসা: শবেবরাতে আল্লাহ আকাশে নেমে আসেন এবং তার সৃষ্টির সকল প্রার্থনা শোনেন। আল্লাহ বলেন, “তোমরা আমার কাছে প্রার্থনা করো, আমি তোমাদের প্রার্থনা শুনবো।” (হাদিস) এতে মুসলমানরা নিজেদের দোয়া, ক্ষমা, ভালোবাসা, শান্তি, বিপদ থেকে মুক্তি চেয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।

শবেবরাতের ঐতিহাসিক গুরুত্ব

১. প্রথম আত্মপ্রকাশ: শবেবরাতের উল্লেখ ইসলামিক ইতিহাসে পাওয়া যায়, যেখানে বলা হয়েছে, এটি সেই রাত যেদিন আল্লাহ প্রথমে রাসূল (সা.) কে ইসলামের সঠিক বার্তা ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেছিলেন। এটি মুসলিমদের মধ্যে আত্মশুদ্ধি এবং এক নতুন উপলব্ধির সূচনা হিসেবে মনে করা হয়।

২. অংশগ্রহণের গুরুত্ব: মুসলমানরা এই রাতে বিশেষ নফল নামাজ, দোয়া, কুরআন তিলাওয়াত এবং অন্যান্য ইবাদত করে থাকেন। বিশেষত, শবেবরাতে রাতের প্রথম অংশে আল্লাহর কাছে দোয়া চাওয়া এবং পরবর্তী সময়ে রাতের শেষাংশে ইবাদত করা বেশি বরকতপূর্ণ মনে করা হয়।

সমালোচনা

যদিও শবেবরাতের ইবাদত ও গুরুত্ব ইসলামের মধ্যে প্রশংসিত, তবে কিছু ইসলামিক বিদ্বেষী সম্প্রদায় বা ব্যক্তিরা মনে করেন যে, এটি কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় নির্দেশনা নয়। তাদের মতে, শবেবরাতের বিশেষ কোনো আমল বা রীতি ইসলামের মধ্যে নেই, এবং তাই এটি কিছু মুসলমানদের মধ্যে সংস্কৃতিগত অনুশীলন হতে পারে, যা ইসলামের মূল আদর্শ থেকে পৃথক।

উপসংহার

শবেবরাত ইসলামী সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ রাত এবং এটি মুসলিমদের জন্য আত্মবিশুদ্ধি, ক্ষমা, এবং প্রার্থনার সময়। এই রাতে আল্লাহ তার বান্দাদের প্রতি বিশেষ দয়া ও মাগফিরাত প্রদর্শন করেন। মুমিনরা এই রাতে অতিরিক্ত নামাজ, দোয়া, কুরআন তিলাওয়াত, এবং নিজেদের আত্মশুদ্ধির জন্য বিশেষ ইবাদত করে থাকেন। এটি মুসলিমদের জন্য এক অনন্য আধ্যাত্মিক সুযোগ, যার মাধ্যমে তারা আল্লাহর নিকট আরও কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন।

 সবে কদর

লাইলাতুল কদর (শবে কদর) ইসলামের একটি বিশেষ রাত, যা রমজান মাসের শেষ দশকের একরাতে ঘটে। এটি অত্যন্ত বরকতপূর্ণ এবং পুণ্যময় রাত হিসেবে পরিচিত, যেখানে কুরআন নাজিল হয়েছে এবং আল্লাহ বান্দাদের বিশেষ রহমত, ক্ষমা ও মুক্তি প্রদান করেন। কুরআনে এই রাতের গুরুত্ব স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

লাইলাতুল কদরের সম্পর্কে কুরআন:

কুরআনে লাইলাতুল কদর সম্পর্কে এক বিশেষ সূরা রয়েছে, তা হলো সূরা কদর (97)।

সূরা কদর (97:1-5): 1. “নিশ্চয়ই আমরা এটি (কুরআন) নাযিল করেছি শবে কদরে।” 2. “আপনি কি জানেন, শবে কদর কী?” 3. “শবে কদর এক হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।” 4. “এই রাতে ফেরেশতারা এবং রুহ (জিব্রাইল) তাদের প্রভুর অনুমতিতে সকল বিষয় নিয়ে অবতীর্ণ হন।” 5. “এটি শান্তিময় রাত, যা ফজর ওঠা পর্যন্ত স্থায়ী।”

শবে কদরের গুরুত্ব:

1. এটি হাজার মাসের চেয়েও উত্তম: কুরআনে বলা হয়েছে যে, শবে কদরের রাত এক হাজার মাসের চেয়েও বেশি মূল্যবান এবং তা মুসলিমদের জন্য এক বিশেষ সুযোগ। এই রাতে আল্লাহ বান্দাদের জন্য রহমত এবং ক্ষমা প্রদানের ঘোষণা দেন।

2. ফেরেশতাদের অবতরণ: এই রাতে ফেরেশতারা পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন এবং আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী সকল বিষয় ব্যবস্থা করেন। এতে আল্লাহর বিশেষ রহমত ও দয়া মুসলিমদের উপর বর্ষিত হয়।

3. শান্তিময় রাত: শবে কদর একটি শান্তিপূর্ণ রাত, যেখানে পৃথিবীজুড়ে মুসলিমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও রহমত প্রার্থনা করেন।

4. দুআ ও ইবাদতের প্রাধান্য: শবে কদরের রাতেই দুআ, ইবাদত এবং কুরআন তিলাওয়াত করতে মুসলিমদের বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হয়। যে ব্যক্তি এই রাতে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ মনোযোগ সহকারে দুআ করে, তার দুআ কবুল হবে বলে আশা করা হয়।

লাইলাতুল কদরের আমল:

তাহাজ্জুদ নামাজ: শবে কদরের রাতে রাতের বিশেষ নামাজ, তাহাজ্জুদ আদায় করা উচিত।

কুরআন তিলাওয়াত: কুরআন তিলাওয়াত করে এই রাতে আল্লাহর সাথে সংযোগ স্থাপন করা।

দুআ: আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা, নিজের জন্য এবং সারা বিশ্বের মুসলিমদের জন্য দুআ করা।

নফল ইবাদত: সাধারণ ইবাদতের পাশাপাশি আরও বেশি নফল সালাত পড়া।

শেষ কথা:

লাইলাতুল কদর এক অতি গুরুত্বপূর্ণ রাত, যা সারা জীবনের ইবাদতের চেয়ে উত্তম। তাই, মুসলিমদের উচিত এই রাতে অতিরিক্ত ইবাদত, দুআ এবং তওবা করে আল্লাহর কাছে রহমত ও ক্ষমা চাওয়া।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে